এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য ২০২৬

এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য ২০২৬

[মঞ্চে উঠে গভীর শ্বাস নিয়ে, চারপাশে তাকিয়ে শান্তভাবে শুরু করুন]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মহোদয়, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, বিশেষ অতিথিগণ, আর আমার অতি প্রিয় সহপাঠী ভাই-বোনেরা ও ছোট ভাই-বোনেরা — আজকের এই মঞ্চ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই অশেষ ভালোবাসা ও সম্মান।

আজ আমাদের জীবনের এক অত্যন্ত আবেগময় ও স্মরণীয় দিন। যে স্কুলের মাটিতে আমরা শৈশবের প্রথম হাসি থেকে কৈশোরের স্বপ্ন দেখতে শিখেছি, সেই প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে আজ আমরা বিদায় নিচ্ছি। মনের ভেতরটা বারবার কেঁদে উঠছে, কিন্তু এই বিদায় তো শুধু শারীরিক — হৃদয় থেকে কখনো বিদায় নেওয়া যায় না।

মনে পড়ে সেই প্রথম দিনের কথা — ছোট্ট ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ভয়ে ভয়ে স্কুলে ঢোকা, নতুন বন্ধু খোঁজা, নতুন শিক্ষকের সামনে লজ্জা পাওয়া। আর আজ? আজ এই স্কুলের প্রতিটি কোণ, প্রতিটি বেঞ্চ, প্রতিটি গাছ আমাদের কাছে পরিবারের মতো আপন হয়ে গেছে।

স্মৃতির আলবুম খুললেই উঠে আসে:

  • টিফিনের সময় এক প্লেটে ভাগ করে খাওয়া,
  • পরীক্ষার আগে ফিসফিস করে উত্তর বলে দেওয়া,
  • খেলার মাঠে ঝগড়া আর পরক্ষণেই হাসি-ঠাট্টা,
  • দুষ্টুমির জন্য স্যারের বকা, আর সেই বকা যে আসলে ভালোবাসারই একটা রূপ ছিল।

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী, আপনাদের কাছে আমরা আজ মাথা নত করছি। আমাদের অজ্ঞতা, দুষ্টুমি, পড়া না পারার জন্য হয়তো অনেকবার কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু আপনারা কখনো হাল ছাড়েননি। আপনাদের শাসন আমাদের শক্তি দিয়েছে, আপনাদের স্নেহ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে। আপনারা শুধু বইয়ের জ্ঞানই দেননি, আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছেন। এই ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। আপনাদের জন্য অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা ও দোয়া রইল।

প্রিয় সহপাঠী ও বন্ধুরা, আজ থেকে আমাদের পথ হয়তো আলাদা হবে। কেউ ডাক্তার হবো, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবো। কিন্তু যে বন্ধন এই স্কুলের ছায়ায় গড়ে উঠেছে, সেটা কখনো ভাঙবে না। আমরা সবসময় একে অপরের পাশে থাকবো।

আর সামনে অপেক্ষা করছে আমাদের জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ — এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। ভয় হচ্ছে, চিন্তা হচ্ছে, কিন্তু আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি — এই স্কুলের মান-সম্মান আমরা অক্ষুণ্ণ রাখবো। ভালো ফলাফল করে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করবো।

আর আমাদের ছোট ভাই-বোনদের বলছি, এই স্কুল তোমাদের জন্য আমানত। এটাকে ভালোবাসো, সম্মান করো, আরও সুন্দর করে গড়ে তোলো। তোমরা যেন আমাদের মতোই স্মৃতি জমিয়ে রাখতে পারো।

শেষ করার আগে বলতে চাই — বিদায় প্রিয় স্কুল, বিদায় প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, বিদায় আমার শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলো। চোখ ভিজে আসছে, কথা আটকে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যেখানেই যাই, এই স্কুলের নাম আমাদের হৃদয়ে চিরকাল খোদাই থাকবে।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের জন্য দোয়া করবেন — আমরা যেন সফলতার সিঁড়ি বেয়ে আরও উঁচুতে উঠতে পারি।

খোদা হাফেজ। [চোখ মুছে, গভীর শ্রদ্ধায় সালাম জানিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করুন]

এই বক্তব্যটি আবেগ, শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার এক সুন্দর মিশ্রণ। আশা করি আপনার বিদায় অনুষ্ঠানকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে!

Related posts

Leave a Comment